বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে জন্ডিস নতুন কোনো রোগ নয়। এ রোগে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। জন্ডিস রোগটি কী, এটি কেন হয়, তা এক ভিডিওতে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হোসাইন মোহাম্মদ শাহেদ। তথ্যগুলো তার ভাষায় উপস্থাপন করা হলো পাঠকদের সামনে।
জন্ডিস কী
আমাদের মেডিক্যাল টার্মে যখন চোখ এবং প্রশ্রাব হলুদ হয়, তখন এটাকে জন্ডিস বলা হয় এবং জন্ডিস যখন খুব বেশি হয়ে যায় তখন চামড়া বা স্কিনের মধ্যেও হলুদ রংটা চলে আসে।
সাধারণত বিলিরুবিন নামক একটা পিগমেন্টের কারণে এ জন্ডিসটা হয় এবং এটা রক্তের একটা নরমাল লেভেল আছে, ওয়ান মিলিগ্রাম বা ওয়ান পয়েন্ট ওয়ান মিলিগ্রাম ধরা হয়। এর বেশি হলে এটাকে জন্ডিস বলা হয়।
জন্ডিস কেন হয়
জন্ডিসের অনেকগুলো কারণ আছে। আমরা সহজভাবে বলি, হেপাটাইটিস কিছু ভাইরাস আছে, যেগুলো শরীরে জন্ডিস সৃষ্টি করে। যেমন: হেপাটাইটিস-এ ভাইরাস, বি ভাইরাস, সি ভাইরাস, ডি ভাইরাস, ই ভাইরাস। এ ভাইরাসগুলো শরীরে জন্ডিস করে। এ ভাইরাসটা ছোট বাচ্চাদেরকে জন্ডিস করে। ই ভাইরাসটা বড়দের জন্ডিস করে। বি এবং সি ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস সবারই হতে পারে।
সাধারণত জন্ডিস বিভিন্নভাবে হতে পারে। জন্ডিসের জীবাণুটা শরীরে দুইভাবে ঢুকতে পারে। একটা হলো খাওয়া-দাওয়ার মাধ্যমে ঢুকতে পারে। আরেকটা রক্তের মাধ্যমে বা সিরিঞ্জ এগুলোর মাধ্যমে ঢুকতে পারে। বি এবং সি নিডল/সিরিঞ্জ, রক্তের মাধ্যমে ঢুকতে পারে বা সেক্সের মাধ্যমে ঢুকতে পারে। আর হেপাটাইটিস এ এবং ইটা খাওয়া-দাওয়ার মাধ্যমে, হোটেলে খাইলাম বা কোথাও দাওয়াত খাইলাম, তখন এই জন্ডিসটা শরীরে ঢোকে।
কিছু রোগের কারণে জন্ডিস হয়। যেমন: থ্যালাসেমিয়া বা এক ধরনের অ্যানিমিয়া। অনেক সময় কোনো ওষুধ বা ড্রাগসের কারণে। আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র খাই। এগুলো থেকে অনেক সময় জন্ডিস হয়। যেমন: পেইন কিলার এনএসএডি বা প্যারাসিটামল বা অ্যাস্টেরয়েড ওরাল পিল, ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল। তারপরে বিভিন্ন রকম অ্যান্টিরিউমেটিক ড্রাগ, অ্যান্টি সাইকোটিক ড্রাগ বা অ্যান্টি টিবি ড্রাগ, এসব কারণে জন্ডিস হতে পারে। আবার অনেক সময় পিত্তথলিতে বা পিত্তনালিতে পাথর হইছে বা টিউমার হইছে বা ওয়ার্মস (কৃমি) ঢুকছে, এগুলোর কারণে জন্ডিস হতে পারে।