দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্তের হার এবার ৭ শতাংশ ছাড়াল। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এ নিয়ে টানা চার দিন পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি বলে তথ্য দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৫৯৬ জন। যা সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ৪ মার্চ ৬০৪ জনের দেহে করোনা শনাক্তের সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ নিয়ে দেশে একদিন ছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ টানা ১৯ দিন নতুন রোগীর সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে বাড়ল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একদিনে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বেড়েছে তিন হাজার। নমুনা পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে রোগী শনাক্তের হারও। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৩৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আর পরীক্ষা করা হয় ৫ হাজার ১২২টি নমুনা।
পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ নিয়ে টানা চার দিন পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি তথ্য দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শনিবার এই হার ছিল ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শুক্রবার যত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার ৬ দশমিক ২৭ শতাংশে ভাইরাসটির উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার এই হার ছিল ৫ দশমিক ৭৬। এই হার গত ১১৬ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল।
এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৭ জনে। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ৫৫৪ জনই ঢাকা মহানগর ও জেলার বাসিন্দা। এর বাইরে ময়মনসিংহ বিভাগে এক জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে তিন জন, রংপুর বিভাগে এক জন, খুলনা বিভাগে তিন জন এবং বরিশাল বিভাগে এক জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪৯ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৫ হাজার ৮০৭ জন।
টানা দুই দিন নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি থাকা এবং প্রতিদিনই তা আগের হারকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী করোনার কোনো ঢেউ চলার সময় শনাক্তের হার পরপর দুই সপ্তাহ যদি ৫ শতাংশের নিচে থাকে, তাহলে সেই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা যাবে।
বিপরীত দিক দিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকার অবস্থায় পর দুই সপ্তাহ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি হলে করোনার পরবর্তী ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধরা হবে।
২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে।
প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনের করোনায় আসে দ্বিতীয় ঢেউ। এ পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর দেশে তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আসে করোনার আরেক ধরন ওমিক্রন। এই ধরন শনাক্ত গত বছরের ১১ ডিসেম্বর আর তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয় ২০ জানুয়ারি।
২৮ জানুয়ারি করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ দাঁড়ায়, যা দেশে করোনা সংক্রমণ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। তবে তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত বেশি হলেও মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। এই ঢেউ দ্রুত নিয়ন্ত্রণেও আসে। গত ১১ মার্চ তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।