আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই উপগ্রুপের কর্মীরা। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত ছয় জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালের চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে জড়ানো শাখা ছাত্রলীগের গ্রুপ দুটি হলো সিক্সটি-নাইন ও সিএফসি। প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের হস্তক্ষেপে ছয়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিক্সটি নাইন সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন এবং সিএফসি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু, অন্যদিকে সিএফসির নেতৃত্বে আছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সহ-সভাপতি সাদাফ খান।
সংর্ষের সময় সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা শাহ জালাল হল ও সিএফসির কর্মীরা শাহ আমানত হলে অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। এ সময় দুই গ্রুপের কর্মীদের লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া দিতে দেখা যায়।
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিক্সটি নাইন ও সিএফসির দুই কর্মীর মধ্যে বাদানুবাদ ও কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, ‘ছয়জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাথরের আঘাতে কয়েকজনের মাথা ফেটে গেছে।
সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ‘কি নিয়ে ঝামেলা, সেটা খোঁজ খবর নিচ্ছি।’
সিএফসি গ্রুপের একাংশের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদাফ খান বলেন, ‘সিক্সটি নাইনের ছেলেরা উস্কানি দিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। আকিব জাভেদ নামের ওদের এক কর্মী আমাদের হলের (শাহ আমানত) এসে মাতলামি শুরু করে। এরপর এটা নিয়ে কথা-কাটাকাটি, ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ শুরু হয়। আমাদের তিন কর্মী আহত হয়েছে।’
সহকারী প্রক্টর নাজেমুল আলম বলেন, ‘দুই পক্ষ এখন শান্ত আছে। সবাইকে হলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। আহত ৬ জন, তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’