বাংলাদেশ

মতামত

খেলা

বিনোদন

জীবনযাপন

তারুণ্য

কিড জোন

অন্যান্য

রেস-জেন্ডার

ফ্যাক্ট চেক

স্বাস্থ্য

আন্তর্জাতিক

শিক্ষা

অর্থ-বাণিজ্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানি: ৫ শিক্ষককে শাস্তি যশোর বোর্ডের

  •    
  • ২৩ নভেম্বর, ২০২২ ১৪:৪৩

যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসির ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষকরা প্রণয়ন ও পরিশোধন করেছেন। যশোর শিক্ষা বোর্ড গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্নপত্রটি সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নের নির্দেশনার পরিপন্থি হয়েছে। এ কারণে পাঁচ শিক্ষককে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ‘সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক’ প্রশ্ন রাখার ঘটনায় পাঁচ শিক্ষককে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ওই বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্রের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ শাস্তির নির্দেশ দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসির ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষকরা প্রণয়ন ও পরিশোধন করেছেন। যশোর শিক্ষা বোর্ড গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রশ্নপত্রটি সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নের নির্দেশনার পরিপন্থি হয়েছে। এ কারণে পাঁচ শিক্ষককে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে ওই শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করা হবে না।

জানতে চাইলে মাধব চন্দ্র রুদ্র বুধবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত যত দায়িত্ব আছে, তা থেকে তাদের বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন প্রণয়ন, পরীক্ষক হওয়া, প্রধান পরীক্ষক হওয়া, পরিশোধন করা—এই জাতীয় কাজ থেকে তাদের বিরত রাখা হলো।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আপাতত ব্যবস্থা নিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর থেকেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শ্রেণিকক্ষে তারা পাঠদান করাতে পারবেন কি না, বা তাদের অন্যান্য সুবিধা বাতিল করা হবে কি না, সে ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেবে মাউশি।

৬ নভেম্বর সারা দেশে এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়। ঢাকা বোর্ডের ‘কাসালাং’সেটের নাটক সিরাজউদ্দৌলা অংশের ১১ নম্বর প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ শিক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে ৮ নভেম্বর জানায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। একই দিনে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। কমিটি ১৭ নভেম্বর তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

বাংলা প্রথম পত্রের বিতর্কিত প্রশ্নটি করেছেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের ডা. সাইফুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পাল। আর প্রশ্নপত্রটি পরিশোধনের (মডারেশন) দায়িত্বে ছিলেন নড়াইলের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দীন শাওন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান, মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম।

প্রশ্নে যা ছিল

প্রশ্নের একটি অংশে বলা হয়, ‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ-বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ-বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আবদুল নামের এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আবদুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

‘কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’

এই গল্প উল্লেখ করে প্রশ্নপত্রে চারটি প্রশ্ন করা হয়। তার দুটি এ রকম: ‘মীরজাফর কোন দেশ হতে ভারতে আসেন? উদ্দীপকের নেপাল চরিত্রের সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মীরজাফর চরিত্রের তুলনা করো?’

এ বিভাগের আরো খবর