বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির শেয়ারর দর বৃদ্ধিতে ভর করে বছরের তৃতীয় কর্মদিবসে পুঁজিবাজারের সূচক কিছুটা বেড়েছে। তবে বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন থামেনি। গতি ফেরেনি লেনদেনেও।
টানা তিন কর্মদিবস লেনদেন হলো দুই শ কোটি টাকার নিচে, যেটি ২০২০ সালের জুলাইয়ে করোনা বিধিনিষেধের পর আর দেখা যায়নি।
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বেড়েছে ৭ পয়েন্ট। কিন্তু ৪৪টি কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে হারিয়েছে ১১৯টির দর। ১৬৯টি কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে আগের দিনের দরে ফ্লোর প্রাইসে।
লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও তা দুই শ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করতে পারেনি। হাতবদল হয়েছে ১৯৮ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
এ নিয়ে নতুন বছরের তিন দিনের প্রতি দিনই লেনদেন দুই শ কোটির নিচে নামল।
আগের দিন ১৪৬ কোটি ৫১ লাখ ৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। আর বছরের প্রথম দিন হাতবদল হয় ১৭৮ কোটি ৪২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।
চাঙা পুঁজিবাজারে শীর্ষে থাকা একটি কোম্পানিতে এর চেয়ে বেশি টাকার শেয়ারের লেনদেন দেখা গেছে বহুবার।
আগের দুই দিন পতন ছিল ঢালাও। তবে যেহেতু অর্ধেক কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১ শতাংশ এবং ফ্লোর প্রাইসের কারণে বাকি কোম্পানির বেশিরভাগেরই দরপতনের সুযোগই নেই, তাই সূচকের পতন বড় ছিল না। বছরের প্রথম দিন ১১ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় দিন দরপতন হয় ১৭ পয়েন্ট।
পুঁজিবাজারে যতগুলো কোম্পানি আছে, তার মধ্যে ৫৭টির ক্রেতা দেখা যায়নি এদিনও। যে লেনদেন হয়েছে, তার মধ্যে শীর্ষ ২০টি কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ১২৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। বাকি ৩১১ কোম্পানি মিলিয়ে হাতবদল হয়েছে ৭১ কোটি ৩৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
সব কোম্পানির মধ্যে এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে কেবল ৩৩ কোম্পানিতে, ১০ লাখ টাকার বেশি হাতবদল হয়েছে সব মিলিয়ে ৭৭টিকে আর এক লাখ টাকার বেশি হাতবদল হয়েছে সব মিলিয়ে ১৪৫টি কোম্পানিতে।
লেনদেনের সেরা ওষুধ ও রসায়ন খাত। তবে ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে ব্যাংক খাতে কিছুটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এতদিন একেবারে তলানিতে থাকলেও কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারদর অল্প করে বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমলেও সূচক বাড়ার কারণ বড় মূলধনি কয়েকটি কোম্পানি। বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস, বসুন্ধরা পেপার মিলস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মা, প্রাইম ব্যাংক ইউনিক হোটেল, বেক্সিমকো সুকুক বন্ড এবং কোহিনূর ক্যামিকেলস- এই ১০টি কোম্পানিই সূচকে যোগ করেছে ৫.৩৭ পয়েন্ট।
এর মধ্যে সবচেয়ে কম ০.৫ শতাংশ দর বেড়েছে অলিম্পিকের। কোম্পানিটি সূচকে যোগ করেছে ০.৩১ পয়েন্ট।
তিনটি ব্যাংকের মধ্যে প্রাইমের দর ১.৫৬ শতাংশ, প্রিমিয়ারের ৩.০১ শতাংশ এবং ওয়ানের দর বেড়েছে ৩.৮৮ শতাংশ। এই কোম্পানিগুলোর শেয়ার সংখ্যা অনেক বেশি। যে কারণে দর একটু বাড়লেই সূচকে ভালো প্রভাব ফেলে।
এছাড়া বসুন্ধরা পেপারের দর ৪.৭৭ শতাংশ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের দর ২.৯ শতাংশ, কোহিনূরের দর ২.০৯ শতাংশ, ওরিয়ন ফার্মার দর ১.৭৬ শতাংশ, ইউনিক হোটেলের দর ১.৬২ শতাংশ, সুকুকের দর বাড়ে ১.১৮ শতাংশ এবং বার্জার পেইন্টসের দর বেড়েছে এক শতাংশ।
এসব কোম্পানির মধ্যে সর্বাধিক দর বৃদ্ধির ১০টি ছিল কেবল দুটি। এগুলো হলো বসুন্ধরা পেপার ও ওয়ান ব্যাংক। আগের কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় এই তালিকার শীর্ষে ছিল ইসলামিক কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। আগের দিনের তুলনায় ৯.৭৩ শতাংশ বেড়ে দর দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ২০ পয়সায়।
আরও ছয়টি কোম্পানির চর ৪ শতাংশের বেশি, ৭টি কোম্পানির দর ৩ শতাংশের বেশি, ৮টির দর ২ শতাংশের বেশি, ১৪টির দর বেড়েছে এক শতাংশের বেশি।
অন্যদিকে দরপতন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বড় মূলধনি নেই বললেই চলে। ফলে সেগুলোর পক্ষে সূচকে প্রভাব ফেলা সম্ভব নয়। সবচেয়ে বেশি পতন হওয়া ওরিয়ন ইনফিউশন ৮.১৫ শতাংশ দর হারানোর পর কোম্পানিটি সূচক কমিয়েছে ১.০৬ পয়েন্ট। সবচেয়ে বেশি সূচক ফেলেছে এমন কোম্পানিগুলোর মধ্যে চারটি কোম্পানি ০.০২ পয়েন্ট এবং তিনটি ০.০৩ পয়েন্ট কমাতে পেরেছে।
সবচেয়ে বেশি দরপতন হওয়া কোম্পানির মধ্যে এক শতাংশের বেশি কমতে পেরেছে কেবল দুটি কোম্পানি। ওরিয়ন ইনফিউশন ছাড়া অন্যটি হলো কুইন সাউথ টেক্সটাইল, যেটির দর কমেছে ৫.৬৬ শতাংশ।
এছাড়া দুটি কোম্পনির এক শতাংশ, ৪৪টি কোম্পানির ০.৯০ থেকে ০.৯৯ শতাংশ, ২৮টি কোম্পানির ০.৮ থেকে ০.৮৯ শতাংশ দর কমেছে। এগুলোর প্রায় সবগুলোর দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা এক শতাংশ ঠিক করে ফ্লোর তুলে দেয়া হয়েছে।