বাংলাদেশ

মতামত

খেলা

বিনোদন

জীবনযাপন

তারুণ্য

কিড জোন

অন্যান্য

রেস-জেন্ডার

ফ্যাক্ট চেক

স্বাস্থ্য

আন্তর্জাতিক

শিক্ষা

অর্থ-বাণিজ্য

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

ইউনাইটেড এয়ারকে ফেরাতে সাহায্য চেয়েছে নতুন পর্ষদ

  •    
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২২ ১৯:৫২

নতুন পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, এ বেসরকারি এয়ারলাইন কোম্পানিকে চালু করতে হলে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ যে টাকা পায়, সেটা মওকুফ করতে হবে। বিমানবন্দরে পড়ে থাকা অবস্থায় অকেজো যন্ত্রাংশ বিক্রি করার অনুমোদন চেয়েছে তারা। এ ছাড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলো বিক্রির অনুমতি চেয়েছে তারা।

দেশের পুঁজিবাজারে ওটিসি মার্কেটে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারকে ব্যবসায় ফেরাতে বসানো নতুন পরিচালনা পর্ষদ চারটি সাহায্য চেয়েছে। এগুলো না পেলে ইউনাইটেড এয়ারকে ব্যবসায় ফেরানো যাবে না বলে জানিয়েছে তারা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে কোম্পানির নতুন পরিচালনা পর্ষদ থেকে পাঠানো একটি চিঠির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

নতুন পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, এ বেসরকারি এয়ারলাইন কোম্পানিকে চালু করতে হলে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ যে টাকা পায়, সেটা মওকুফ করতে হবে। বিমানবন্দরে পড়ে থাকা অবস্থায় অকেজো যন্ত্রাংশ বিক্রি করার অনুমোদন চেয়েছে তারা। এ ছাড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলো বিক্রির অনুমতি চেয়েছে তারা। আর কোম্পানির রেজিস্ট্রার্ড অফিসে রক্ষিত মূল্যবান ফাইলপত্র উদ্ধারে দরকারী সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

নতুন পর্ষদ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত কোম্পানির অফিসে বসতে পারেননি। যেখানে যায়গা পেয়েছিলেন, সেখান থেকেও চলতি বছরের জুলাই মাসে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তারা দেখতে পেয়েছেন, কোম্পানির প্রতিটি একাউন্ট প্রায় শূন্য। এর থেকে কোনো টাকা তোলা সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় এই চারটি সাহায্য না পেলে কোম্পানিকে চালানো যাবে না।

ইউনাইটেড এয়ার পুঁজিবাজারের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরের অপেক্ষায় আছে।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ২০০৭ সালে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে তারা দেশের অভ্যন্তরে সেবা দেয়া শুরু করে। পরে দেশের বাইরের রুটেও সেবা দিচ্ছিল। ২০১০ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি।

কোম্পানির পরিচালকদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো ইউনাইটেড এয়ায়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আবার চালু হলেও ২০১৬ সালে এর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালে ইউনাইটেড এয়ারকে বাংলাদেশের মূল পুঁজিবাজার থেকে ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

গত মাসের শুরুর দিকে কোম্পানি নিয়ে কারসাজি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় পুঁজিবাজারে ইউনাইটেড এয়ার নিয়ে কারসাজি খতিয়ে দেখতে বিএসইসিকে অনুরোধ করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।

বর্তমানে এই শেয়ারকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরের জন্য রাখা হয়েছে।

গত বছর এয়ারলাইনটি পুনরুজ্জীবিত করতে বিএসইসি আট জন অভিজ্ঞ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়। গঠন করা হয় নতুন পরিচালনা পর্ষদ।

কোম্পানিটির মূল মালিক ক্যাপ্টেন তাসারুল আহমেদ চৌধুরী বিদেশে পলাতক রয়েছেন। নতুন পরিচালনা পর্ষদ ২০২১ সালের ৪ মার্চ দায়িত্ব নেয়ার পর পরই এয়ারলাইনটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেন।

ওটিসি মার্কেটের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউনাইটেড এয়ারের শেয়ার ১ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। অথচ শেয়ারটির অভিহিত মূল্য ছিল ১০ টাকা।

পুঁজিবাজারে এই কোম্পানির ৮২ কোটি ৮০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮০টি শেয়ার আছে। এর মধ্যে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ আছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ১১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। বাকি ৮৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ইউনাইটেড এয়ারের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৮২৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। বাজার মূলধন আছে ১৪৯ কোটি ৬ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এ বিভাগের আরো খবর