আউশে আগ্রহ কমেছে নেত্রকোণার চাষিদের

আউশে আগ্রহ কমেছে নেত্রকোণার চাষিদের

পূর্বধলা উপজেলার মৌদাম গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘আউশ আবাদের লাইগ্যা কৃষি অফিসের কেউই কিচ্ছু কইছে না। মাঠের মধ্যে অহন কোনো ফসল নাই। আউশ করলে পোকায় দরে। খরচা বেশি অইয়া যায়। সরকারে সহযোগিতা করলে তো করলাময়েই।’

এ বছর বোরো ধানে ব্যাপক সফলতার পর আউশ ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

সরকারি কর্মকর্তারা কৃষি প্রণোদনা দিয়েছেন জানালেও চাষিরা বলছেন তারা প্রণোদনার কথাই শোনেননি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবারক আলী জানান, নেত্রকোণার ১০ উপজেলায় চলতি বছর আউশ ধান আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৭৩ টন।

এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২ হাজার ৪০০ কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে পাঁচ কেজি বীজ ও ৩০ কেজি সার। কিন্তু আবাদ হয়েছে ১ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে। ধান লাগানো হয়নি ২৪০ হেক্টর জমিতে। গত বছর ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হয়েছিল আউশের আবাদ।

কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রণোদনার পরও অনীহার কারণে এবার আউশের আবাদ কম হয়েছে।

তবে কৃষকরা বলছেন ভিন্ন কথা।

কলমাকান্দা উপজেলার পাগলা এলাকার কনুড়া গ্রামের কৃষক মনতোষ বিশ্বশর্মা এবার তার জমিতে আউশের আবাদ করেননি। তিনি বলেন, ‘কৃষি অফিসের কেউ আউশ আবাদের লাইগ্যা কইছে না। সরকার প্রণোদনা দিছে আপনের থেইক্যা পয়লা হুনলাম। বীজ, সার দিলে আমরাও করলাময়েই।’

পূর্বধলা উপজেলার মৌদাম গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘আউশ আবাদের লাইগ্যা কৃষি অফিসের কেউই কিচ্ছু কইছে না। মাঠের মধ্যে অহন কোনো ফসল নাই। আউশ করলে পোকায় দরে। খরচা বেশি অইয়া যায়। সরকারে সহযোগিতা করলে তো করলাময়েই।’

মৌদাম গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুস সাত্তারও বলেন, ‘সরকার আগাইয়া আইলে আমরা কৃষকেরা আউশ লাগাইলাময়। কৃষি আফিসের লোকেরা তো কই কী করে হেরাই জানে। হেরা কি আর আমরার কাছে আয়ে?’

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবারক আলী জানান, বোরো আবাদের পরপরই জমিতে আউশ আবাদ শুরু হয়। এ সময় হাওরে আর কোনো ফসল থাকে না। এ কারণে আউশ আবাদে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়। পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে কৃষকদের বেশি খরচ ও খাটনি হয়।

এসব কারণে কৃষকরা আউশ আবাদে কম ঝোঁকেন। তা ছাড়া এবার বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় চাল উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার টনেরও বেশি। এতে কৃষকরা অনেকটা নিশ্চিন্ত আছেন।

এ অবস্থায় কৃষকদের অনাগ্রহের কারণে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের চেষ্টার পরেও জেলায় আউশ আবাদে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য