20201002104319.jpg
সুন্দরবনে গাছের ঘনত্বের সঙ্গে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

সুন্দরবনে গাছের ঘনত্বের সঙ্গে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

করোনাকালীন পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে বেড়েছে গাছের ঘনত্ব। সেই সঙ্গে সময়টিতে বেড়েছে মধু আহরণের পরিমাণ।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর সুন্দরবন থেকে মধু আহরণের পরিমাণ বেড়েছে ৪৭৮ কুইন্টাল। পাশাপাশি মোমের উৎপাদন বেড়েছে ১৩৭ কুইন্টাল।

বন বিভাগ জানিয়েছে, করোনায় সুন্দরবনে মৌমাছির চাক তৈরির অনুকূল পরিবেশ থাকায় মধু ও মোমেরে উৎপাদন বেড়েছে।

সুন্দরবনের মৌয়ালরা জানিয়েছেন, যেকোনো বছরের চেয়ে এ বছর চাকের আকার বড় হওয়ায় মধু ও মোমের পরিমাণ বেশি হয়েছে।

সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হয়ে ১ এপ্রিল থেকে, আর শেষ হয় ৩০ জুন পর্যন্ত। এই টানা তিন মাস বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে চলে মৌয়ালদের মধু আহরণ। অবশ্য এ জন্য তাদের রাজস্বও দিতে হয়।

অবশ্য সুন্দরবনের মৌয়ালদের অভিযোগ, তারা মধুর প্রকৃত দাম পান না। তার উপর তাদের দিতে হয় দাদনের টাকা। সব মিলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগ জানায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তাদের আওতাধীন এলাকা থেকে ১২২০ দশমিক ৫০ কুইন্টাল মধু এবং ৩৬৬ দশমিক ১৫ কুইন্টাল মোম আহরণ করা হয়েছে।

মধু থেকে ৯ লাখ ১৫ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং মোম থেকে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৫০ টাকা রাজস্ব আয় করেছে পূর্ব বন বিভাগ।

আগের অর্থবছরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের এলাকা থেকে ৭৪২ দশমিক ৫০ কুইন্টাল মধু এবং ২২৯ দশমিক ৫০ কুইন্টাল মোম আহরণ করা হয়। যা থেকে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭৫ টাকা রাজস্ব করেছিল বন বিভাগ।

বাগেরহাটের শরণখোলার সুন্দরবন সংলগ্ন চালতেবুনিয়া গ্রামের মৌয়াল ইসমাইল হোসেন জানান, ১৫ বছর ধরে তিনি সুন্দরবন থেকে মধু আহরণ করছেন। চলতি মৌসুমে দুই দফায় তিন মণ মধু আহরণ করেন তিনি। পরে দাদনে নেয়া ২০ হাজার টাকার বদলে ৫০০ টাকা কেজিতে মধু বিক্রি করেন মহাজনের কাছে।  

ইসমাইলসহ তার সঙ্গে মধু আহরণে যাওয়া মৌয়ালরা জানান, বিগত কয়েক বছরে তারা সুন্দরবনে এতো মধু পাননি।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, সুন্দরবনে গাছের ঘনত্ব ও মধুর উৎস বেড়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছে ফুলের সংখ্যাও বেড়েছে। মৌমাছি চাক তৈরির অনুকূল পরিবেশ পেয়েছে। ফলে এ বছর মধু উৎপাদন বেড়েছে। সূত্র: ইউএনবি

শেয়ার করুন